ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​টেকনাফের পাহাড়ে অপহরণের নিরবচ্ছিন্ন চক্র এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব-(সেনাঘাটি দাবি)চট্টগ্রাম কলেজে পড়োয়া এনসিপি'র নেত্রী সামীরা আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-৩০ ২৩:৫০:৪৮
​টেকনাফের পাহাড়ে অপহরণের নিরবচ্ছিন্ন চক্র এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব-(সেনাঘাটি দাবি)চট্টগ্রাম কলেজে পড়োয়া এনসিপি'র নেত্রী সামীরা আক্তার ​টেকনাফের পাহাড়ে অপহরণের নিরবচ্ছিন্ন চক্র এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব-(সেনাঘাটি দাবি)চট্টগ্রাম কলেজে পড়োয়া এনসিপি'র নেত্রী সামীরা আক্তার

হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী):

‎  টেকনাফের পাহাড়ে অপহরণের নিরবচ্ছিন্ন চক্র এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব?? ‎​টেকনাফের ভূ-প্রকৃতি (ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পাহাড়) অপরাধীদের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের তোলা "সেনাঘাঁটি চাই" দাবিটির পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে: ‎​ভৌগোলিক জটিলতা: টেকনাফের পাহাড়গুলো এতোটাই দুর্গম যে সাধারণ পুলিশি টহল বা অভিযান সেখানে স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।

 ‎প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ: অপরাধীরা এখন ড্রোন বা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে গহীন জঙ্গল থেকে অপহরণ বাণিজ্য পরিচালনা করছে। ‎​আস্থার সংকট: বারবার অভিযান সত্ত্বেও অপরাধীদের নির্মূল করা না যাওয়ায় স্থানীয়রা মনে করছেন, কেবল একটি স্থায়ী এবং শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতিতেই (যেমনটা পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় আছে) এই বিভীষিকা থামানো সম্ভব। ‎​বাস্তবায়ন কেন থমকে আছে? ‎​একটি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প বা ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি কেবল স্থানীয় দাবির ওপর নির্ভর করে না; এর সাথে কিছু প্রশাসনিক ও কৌশলগত বিষয় জড়িত থাকে: ‎​নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত: স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়। ‎​


কৌশলগত পরিবর্তন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে ড্রোন নজরদারি এবং'কম্বাইন্ড অপারেশন' (যৌথ অভিযান)-এর ওপর জোর দিচ্ছে, যা স্থায়ী ঘাঁটির বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ‎​আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা: মাদক পাচার এবং রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সাথে অপহরণের যোগসূত্র থাকায় সমস্যাটি বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। ‎​আশু করণীয়: যা হওয়া উচিত ‎​নিরাপদ পাহাড় নিশ্চিত করতে হলে কেবল আশ্বাসে কাজ হবে না, প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ: ‎​স্থায়ী চৌকি স্থাপন: দুর্গম পয়েন্টগুলোতে বিজিবি বা র‍্যাবের স্থায়ী ছোট ছোট ক্যাম্প স্থাপন করা। ‎​উন্নত নজরদারি: পুরো পাহাড়ি এলাকাকে থার্মাল ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারির আওতায় আনা। ‎​


জনগণের সম্পৃক্ততা: স্থানীয়দের নিয়ে 'কমিউনিটি পুলিশিং' জোরদার করা যাতে অপরাধীদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা যায়। ‎​সারকথা: টেকনাফের মানুষের দাবিটি ছিল 'বাঁচার অধিকার-এর দাবি। ছাত্র-জনতার সেই সাহসী আওয়াজ যদি নীতিনির্ধারকদের কানে দ্রুত না পৌঁছায়, তবে এই মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট হবে। আপনার মতো সচেতন নাগরিকদের এই জোরালো কণ্ঠই পারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অ্যাকশনে যেতে বাধ্য করতে। ‎​নিরাপদ টেকনাফ এবং শান্ত পাহাড়ের প্রত্যাশা করি টেকনাফবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ